ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি

মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের সামাজিক ও আইনগত প্রেক্ষাপটে এটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে সেই প্রচলিত ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বরং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

আদালত বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন কোনো বিধান নেই, যেখানে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, যেহেতু দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির এখতিয়ার আরবিট্রেশন কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত, তাই স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এতদিন দেশে প্রচলিত ধারণা ছিল—প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে হাইকোর্টের মতে, এই ধারণার পক্ষে আইনে সুস্পষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

আইনি প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য যে, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীদের ক্ষেত্রে ওই শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এদিকে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা রিটটি দায়ের করেছিলেন বলে জানান।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রলোভনের কারণে বহু পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে সমাজে বৈষম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে মত দেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই মামলা গেলে তা দেশের আইন ও সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ