প্রায় দেড় যুগেরও বেশী সময়ে পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সংযম, কৃচ্ছ্রসাধন পরমতসহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি নতুন সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। বিভেদ, হানাহানি, ক্ষমতার দাপটের বদলে তিনি মার্জিত, বিনয়ী এবং পরিশীলিত সরকার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় সব ক্ষেত্রে অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রটোকল বহর কমিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে নিজেই কাঁধে ব্যাগ নিয়েছে। নিজের দপ্তরের খরচ কমিয়ে অপচয় বন্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যদের জন্য্ যা অনুস্মরনীয়,অনুকরণীয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফর প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যক্তি ও কর্মকর্তাগণ ছাড়া বাড়তি লোককে অন্তভূক্ত করেন নি। একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করতেছেন। যা অতীতের যে কোন সরকারি সফরের সঙ্গে তুলনা করলে এটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলা চলে।
১৮ মাসের অন্তবর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মো:ইউনূস বিদেশ সফরের ন্যায় বিমান বোঝায় এনজিওদের নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে যান নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন ছাড়া কোন সফর সঙ্গী নেই। ড. মো:ইউনূস মশা নিধনের কৌশল দেখতে বিদেশ যাওয়ার বায়না ধরছেন। লিফট দেখতে বিদেশ যেতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুচ্ছ ঘটনায় বিদেশ ভ্র্রমনের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি ও নেতা-কর্মীদের লাগাম টেনে ধরা প্রক্রিয়া নিয়েছেন্। দেশের ভিতরেও ঢাকার বাইরের সফর মানেই হেলিকপ্টার,গাড়ির বহর দীর্ঘদিনের রীতি পাল্টা্তে হবে।তাঁর প্রয়াত মাতা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের নাম করার প্রস্তাব নাকচ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল নজির সৃষ্টি করেছেন।
চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরা সহজ হবে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষে নাগালের মধ্যে আসবে। উৎপাদন ক্ষেত্র অর্থাৎ কৃষক থেকে ঢাকাসহ অন্যান্য্ স্থানে যেতে-আসতে পরিবহনকে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দেয়ার কারণেই দ্রব্য্ মূল্যের উর্ধ্গতির আসল কারণ। আইন শৃংখলা অবনতির কারণও বটে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঢাকা শহরের ফুটপাত দখল করে যারা ব্যব্যসা করে, যারা ভ্যানে ব্যবসা করে তারাও এসব অপতৎপরতা থেকে রক্ষা পায় না। মনে রাখতে হবে বর্ত্মান সরকার জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ্ ১৭ বছর সীমাহীন নিপীড়ন ও অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। জনগণের আকাঙ্খা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশে গড়ার প্রত্য্য় নিয়ে রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং সরকার পরিচালনা পদ্ধতি চালু করার চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী সেই পথেই হাঁটছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সফল করতে হলে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের একই পথ অনুস্মরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে একটি সমাজ, একটি পাড়া মহল্লা কিংবা একটি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় ও বিভাগীয় শহরে সন্ত্রাসীদের সংখ্যা হাতে গোনা। সাধারণ মানুষের শতকরা ৯৯ভাগ ভাল।অসৎ মানুষকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য্ সাধারণ মানুষ ছাড়াও রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাব, আর্মি, আনসার, ভিডিপি, চৌকীদার-দফাদার যারা পাড়া মহল্লার চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে (সকল ক্ষেত্রে নহে)। এমনকি কোন গ্রাম কিংবা পাড়ায় একজন অপরিচত নতুন ব্যক্তি আগমন ঘটলেও তার বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখার একতিয়ার রয়েছে। সপ্তাহে একদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্ম্কর্তার কাছে হাজির হয়ে, প্রয়োজনে একাধিক দিন কিংবা সময়ে থানায়, ইউনিয়ন পরিষদে, কমিশনার অফিসে জানাবার জন্য্ আইন রয়েছে। এলাকার ঝড়,বৃষ্টি,বন্যা,খরা ইত্যাদি বিষয়ে তারা সরকার কে অবহিত করে।্ তারা সরকারি কর্ম্চারি হিসেবে ও নিয়মে বেতন-ভাতাদি পান।
সর্বোপরি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য রয়েছে গ্রামীণ আদালত,ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত,বিজ্ঞ্ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং মহামান্য হাইকোর্ট। কেন তাহলে দেশটি উন্নত দেশের ন্যায় হতে পারে না। প্রকৃত কারণ খুজে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। চুরি, ডাকাতি, খুন, মাদকসেবীর সংখ্যা কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে??? অভিজ্ঞতা বলছে সংশ্লিষ্টরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ করছে না বা অন্য প্রয়োগ করতে পারছে না। ক্ষতিয় দেখার সময় এসেছে।্ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী ও সহায়ক বাহিনীকে উজ্জ্বিত করতে হবে। দমনকারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে আরো সুদৃঢ করতে হবে। তদবিরকে না বলুন। অন্যায় রুখে দিন্।বাংলাদেশের মানুষ-ই বিদেশ আইন মেনে চলে। লাইন ভেঙ্গে একজন আরেক জনের আগে যাওয়ার চেষ্টা করে না। এই আদর্শ বাস্তবায়িত করতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ অনুযায়ী কাজ করলেসুস্থ,সুন্দর ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।









