ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের রাজধানী Beijing-এ অবস্থিত Diaoyutai Hotel-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) শুরু হওয়া এ সম্মেলনের আয়োজন করে Bangladesh Investment Development Authority (BIDA)।

সম্মেলনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বহুমাত্রিক সম্ভাবনা, শিল্পায়নের অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশেষ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন আশিক চৌধুরী। এতে চীনের ১২৫ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরমুখী পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সরকার আন্তর্জাতিক পুঁজি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন ও ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ কেবল একটি সম্ভাবনাময় বাজার নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, Anwara-এ চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং Mongla-য় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও কার্যকর ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘ইনভেস্টমেন্ট অফিস’ চালু করা হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, মাহদী আমিন এবং আতিকুর রহমান রুমন-সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই বিনিয়োগ সম্মেলনকে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ