ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর আমাদের জন্য কতটা ফলপ্রসু হলো !

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২য় বিদেশ সফর চীন। নিশ্চয় এ সফর বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রভূত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাকরিত হয়েছে। চীনের শিল্পপতিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন সব ধরনের সুবিধা মূলধন ও লভ্যাংশ দেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বহু চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তারা এদেশের জনগণের কর্মক্ষমতা, সহনশীলতা এবং বিপুল সম্ভাবনার বিষয় অবহিত। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব স্মারক সই হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার হতে চীনের শিল্পপতিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী বৈষম্যহীন সব ধরনের সুবিধা পাবেন।অতপর বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির ভাষণে চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ আরো অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। ইতোমধ্যে বহু চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা বাংলাদেশের জনগণের কর্মক্ষমতা, সহনশীলতা এবং বিপুল সম্ভাবনা বিষয়ে সম্যক অবগত ও অবহিত। প্রধানমন্ত্রী জানান বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলেছে।

যার মধ্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উল্লেখযোগ্য । ‘এসব অঞ্চলে উন্নত লজিস্টিকস সুবিধা, সমুদ্রবন্দর সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা, দক্ষ শ্রমশক্তি, সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প-পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।’তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘বিডা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালু করেছে এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যাতে তারা বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রণোদনা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহজে তথ্য পেতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশে প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ চালু করবে। চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করা হবে। বাংলাদেশের Export Capacity বাড়িয়ে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন Development Co-Operation কে Concessional Loan বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।বাংলাদেশকে দেয়া চীনা ঋণের অবশিষ্টাংশ কীভাবে কাজে লাগিয়ে Interest Rate Risk কমানো যায়, গ্রেস পিরিয়ড বাড়ানোর কথাও হয়েছে।

Global Development Initiative অর্থাৎ স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক Alignment related Manpower Capacity ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড বিষয়েও MoU স্বাক্ষর হয়েছে। একই সঙ্গে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের একটা ডিফারেন্ট কো-অপারেশন প্ল্যান স্বাক্ষরিত হয়েছে।বাংলাদেশর জাতীয় ফল কাঁঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা MOU হয়েছে।জনসংখাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করার জন্য চীনের ভাষা ম্যান্ডারিন বাংলাদেশের স্কুল কারিকুলামে, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে ব্যবহার করার বিষয়েও দুটো পৃথক MOU হয়েছে। মিডিয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে দুই দেশের কোলাবোরেশন বাড়ানো যায়, থিংক ট্যাংক ফোরাম নিয়ে কীভাবে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল এবং নিউজ পেপারের ভেতরে চারটা এমওইউ হয়েছে।বিনিয়োগ বোর্ড বিডার পাশাপাশি চিটাগাংয়ের আনোয়ারাতে এবং মোংলাতে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, সেখানে ইকোনমিক জোন দিয়ে বাংলাদেশে নতুন চীনা ফ্যাক্টরি, চীনা প্রডাকশন ফ্যাসিলিটি এবং এর মাধ্যমে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করা যায়, সে বিষয়েও পৃথক এমওইউ হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সমঝোতায় সই করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ২য় বিদেশ সফর চীন। নিশ্চয় এ সফর বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রভূত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ