ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

এবার তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। প্রথমদিকে ‘বিষাক্ত তরমুজ’ খাওয়ার কারণে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে আসছে ভিন্ন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ দোখাডিয়া (৪৫) তার পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করেন। খাবারের তালিকায় ছিল মাটন পোলাও। রাতের খাবার শেষে অতিথিরা চলে গেলে রাত প্রায় ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান।

তবে ভোর ৫টার দিকে হঠাৎই পরিবারের সবাই বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যু হয় আবদুল্লাহ, তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব (১৩) ও আয়েশার (১৬)।

ঘটনার পর প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্মিত হন। সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে লক্ষণ দেখা যায়, এখানে তা মিলছে না। মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে সবুজাভ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে আবদুল্লাহ দোখাডিয়ার শরীরে মরফিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর। শক্তিশালী এই ব্যথানাশক ওষুধটি কীভাবে তার শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এটি চিকিৎসাজনিত প্রয়োগ, দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো অপরাধ—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। একই রাতে মাটন পোলাও খাওয়ার পরও তারা সুস্থ ছিলেন, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মৃতদের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে রাজি নয় পুলিশ।

পাশাপাশি, পারিবারিক সম্পর্ক, মানসিক অবস্থা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের এই রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল—দুই-ই তৈরি করেছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় এখন সবাই।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ