ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জেনে নিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলে যেসব দেশ সবচেয়ে নিরাপদ থাকবে

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে টানা বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার সকালে ইরানে সমন্বিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দুই দেশের দাবি, তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই এই ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক’ অভিযান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘বড় সামরিক অভিযান’ চলছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে এসব হামলার খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকার এ ঘটনাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের নাম উল্লেখ না থাকায় কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আজমানে নিহত আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমেদ (৫৫) মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা। অন্যদিকে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলার মো. তারেক।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইউক্রেন-এ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর চার বছর পূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলে বৈশ্বিক উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংকট উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে কোন দেশগুলো তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে?

এশিয়া পোস্ট ২০২৫ সালের গ্লোবাল পিস ইনডেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, কোন দেশগুলো বর্তমানে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ‘বিশ্বব্যাপী শান্তির শীর্ষ পরিমাপক’ হিসেবে পরিচিত এই সূচকটি প্রকাশ করে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমি অ্যান্ড পিস। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়। সামাজিক নিরাপত্তা, চলমান সংঘাত এবং সামরিকীকরণের মাত্রা—এই তিনটি প্রধান উপাদানের ওপর ভিত্তি করেই শান্তির মান নির্ধারণ করা হয়।

আইসল্যান্ড

২০২৫ সালের সূচকে প্রথম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি ইতিহাসে কখনও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ায়নি এবং ভৌগোলিকভাবে বেশ দূরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। আইসল্যান্ডের নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই, যদিও তারা ন্যাটো জোটের সদস্য। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সব সদস্যের ওপর হামলা—যা একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করে, অন্যদিকে বড় সংঘাতে জোটগত বাধ্যবাধকতার প্রশ্নও তোলে। তবু সামরিক শক্তি না থাকায় দেশটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

আয়ারল্যান্ড

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। দেশটি সামরিক নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে। যদিও একটি ছোট প্রতিরক্ষা বাহিনী রয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক সংঘাতে সক্রিয়ভাবে জড়ানোর ইতিহাস খুব সীমিত।

নিউজিল্যান্ড

তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই দেশটি ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বড় ধরনের সংঘাতে তুলনামূলক নিরাপদ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা দেশটিকে সম্ভাব্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আলোচনায় এনেছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের শীর্ষ দশে রয়েছে অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, ডেনমার্ক, স্লোভেনিয়া এবং ফিনল্যান্ড। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক উত্তেজনা আরও বাড়লে এসব দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরপেক্ষ নীতি এবং তুলনামূলক কম সামরিক সম্পৃক্ততা তাদের সম্ভাব্য নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনায় রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে যেকোনো বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব যে পুরোপুরি সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন—সেই বাস্তবতাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তারা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ