বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফরকালে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তাঁরা একটি বার্তাই বেশি শুনছেন—দল হারেনি, বরং ‘হারিয়ে দেওয়া হয়েছে’।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের মিরবক্সটুলা এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘উপজেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে সিলেট জেলা জামায়াত।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে এই পরিসরে অর্জন দলটির ইতিহাসে প্রথম। এজন্য আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অনেকে এটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখলেও জামায়াত বরং তিনটি বড় অর্জন পেয়েছে।
প্রথমত, দলটির নেতৃত্বে একটি ‘অর্থবহ ঐক্য’ গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয়ত, প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান অর্জনকে তিনি আল্লাহর দান হিসেবে উল্লেখ করেন। তৃতীয়ত, এবারের নির্বাচনে ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালভাবে লড়াই করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের আমির বলেন, বিভিন্ন আসনে ১০ থেকে ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাঁদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে, যা তাঁর মতে ‘ইচ্ছাকৃত’। কিছু ক্ষেত্রে ফল ঘোষণার পরও ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতেও অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে বলে দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে তারা প্রকাশ্যে বড় পরিসরে জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে সহযোগিতা চাওয়ার পর দায়িত্বশীল আচরণ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন। বিমানবন্দরে আসার সময়ও এ ধরনের মন্তব্য শুনেছেন বলে জানান। তবে সমর্থকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, এবার কোনো স্থান খালি রাখা হবে না। জাতীয় নির্বাচনে যারা ঝুঁকি নিয়ে দলকে সমর্থন দিয়েছেন, সেসব এলাকা থেকে গ্রহণযোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সামনে আনা হবে।
দলীয় পদ নয়, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে দুটি বিষয় দেখা হবে—দেশপ্রেম ও সততা। এই দুই গুণ থাকলেই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশা, এভাবে দেশবাসীকে ইতিবাচক কিছু দেওয়া সম্ভব হবে।









