ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ম্যানুয়াল পদ্ধতির বিদায়, অনলাইন রিটার্নেই রাজস্বের ভবিষ্যৎ দেখছে এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এনবিআর ভবনে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।

অনলাইন রিটার্নে অভাবনীয় সাফল্য

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে সাড়ে ৩৪ লাখ করদাতা সফলভাবে রিটার্ন দাখিল করেছেন। তিনি বলেন, “অনলাইন রিটার্নের মাধ্যমে সরাসরি রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১৭০ কোটি টাকা।” করদাতাদের ব্যাপক সাড়ায় প্রয়োজনে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি: শুল্ক নয়, দায়ী ডলারের দর

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ফলের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে শুল্ক বৃদ্ধিকে দায়ী করতে নারাজ এনবিআর প্রধান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, গত দেড় বছরে শুল্ক বাড়ানো হয়নি, বরং জনস্বার্থে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও সয়াবিন তেলের ডিউটি কমানো হয়েছে।

তার মতে, মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ ডলারের উচ্চমূল্য। তিনি বলেন, “দুই বছর আগে ডলারের দাম যেখানে ৮০-৮৫ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ১২৬-১২৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই ৪০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির কারণেই আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ছে।” ফলের ওপর কর সংক্রান্ত ভুল তথ্যের বিষয়ে তিনি জানান, ফলের ওপর কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

শুল্ক কাঠামো সংস্কার ও এলডিসি চ্যালেঞ্জ

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার (ট্যারিফ রেশনালাইজেশন) কাজ করছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কিছু ক্ষেত্রে কৌশলগত শুল্ক বজায় রাখা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এনবিআর পুনর্গঠন

এনবিআর-কে ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণী—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্বাচনের আগেই এই সাংগঠনিক সংস্কারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মো. আবদুর রহমান খান।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ