ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বিএনপির হেভিওয়েট যেসব নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে তাদের একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায়ও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি কার্যক্রমে গতি আনতেই ঈদুল আজহার পর বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

এরই মধ্যে সোমবার (১ জুন) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তার পদত্যাগের পর সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনার পাশাপাশি একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মন্ত্রণালয়ে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং কিছু তরুণ মুখ স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছে। তিনি সেনবাগ থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনা-নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের মধ্য থেকে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন।

অন্যদিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

একই সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও নতুন সদস্য যুক্ত হতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো বা না বাড়ানো সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রয়োজন মনে করলে তিনি বর্তমান কাঠামো বজায় রাখবেন, আবার প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনায় সম্প্রসারণও করতে পারেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। কবে, কাকে এবং কোন দায়িত্বে নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এখতিয়ার।”

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে স্পিকার এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। পরে আহমেদ আজম খানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ