মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তেহরানও পাল্টা হামলা বন্ধ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian।
শনিবার (৭ মার্চ) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান।
ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, গত কয়েক দিনে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ইরানের হামলার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সামনে অন্য কোনো পথ ছিল না। তার ভাষায়, ইরানের জনগণ কখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে মাথা নত করবে না এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, কিন্তু তা কখনও সম্ভব হবে না। ইরানের অস্থায়ী নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে—প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তাহলে ইরানও পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করবে।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘Operation Epic Fury’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইরানে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘Operation Roaring Lion’ নামে পৃথক অভিযান চালায়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে Vladimir Putin–এর নেতৃত্বাধীন Russia। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, সেনাসংখ্যা এবং অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানকে সরবরাহ করছে মস্কো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei। তার মৃত্যুর পর তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান Gholam-Hossein Mohseni-Eje’i এবং Guardian Council–এর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।









