বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫৫ হাজার ৩১০ জন শরণার্থীকে এদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে ভোটার বানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বাড়াতে এই দুর্নীতির আশ্রয় নেন শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হেলালুদ্দীন।
কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা ডাকাতের কাছে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র অনুসন্ধানে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু হাসিনা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন জড়িত থাকায় বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।
দুদক সূত্র জানায়, অবসরের পর কক্সবাজারের ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ ও ইসলামপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিককে নাগরিকত্ব দিয়ে ভোটার বানান হেলালুদ্দীন। এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে হয় তাকে।
দুদকের ধারণা, এই চক্র শুধু ঈদগাঁও, ইসলামাবাদেই নয়, বরং কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, লামা, আলীকদমে আশ্রয় নেওয়া আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে ভোটার বানিয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা। পরে নির্বাচন কমিশনও আলাদা একটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়। নির্বাচন কমিশন ও দুদকের করা চাঞ্চল্যকর ওই তদন্ত প্রতিবেদন দুটি দৈনিক জাতীয় পত্রিকার হাতে এসেছে।
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সচিব ছিলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী আমলা হিসেবে পরিচিত হেলালুদ্দীন আহমদ। দুদক সূত্র জানায়, অবসরের পর নির্বাচন করার খায়েশ থেকে ওই এলাকায় আশ্রিত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার বানাতে শুরু করেন তিনি। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজ হয়। একদিকে যেমন এলাকায় তার ভোটার তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রতিটি এনআইডি কার্ড দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
দুদক ও নির্বাচন কমিশনের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হেলালুদ্দীনের গড়ে তোলা সিন্ডিকেটটি শুধু তার নির্বাচনী এলাকাতেই থেমে থাকেনি। বরং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করেছে তারা। তবে পতিত সরকারের বাধায় বিস্তারিত অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে পারলে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হতো, যার মধ্যে অন্তত ৭০ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্টও দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।








