ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

স্বেচ্ছাসেবক দলে বড় রদবদলের আভাস: সভাপতি পদে এগিয়ে নাজমুল হাসান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে পুনর্গঠন ঘিরে দলীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সংগঠনটিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ সরকারে দায়িত্ব পালন করায় মাঠপর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে—এমন মূল্যায়ন থেকেই নতুন নেতৃত্ব আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে সভাপতি পদটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সভাপতি পদে দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, কর্মসূচি বাস্তবায়নে দক্ষতা এবং সংগঠনের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা—এসব কারণেই তিনি শীর্ষ পদে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।

নাজমুল হাসান বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে লিফলেট বিতরণ, কর্মী সমাবেশ আয়োজন এবং জেলা-উপজেলায় মতবিনিময়ের মাধ্যমে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার প্রতি সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারে একমুখী নয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এ.এ. জহির উদ্দিন তুহিনও এ পদে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা নজরুল ইসলাম নোমানের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও চলছে সমান আলোচনা। ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেই এ পদে নেতৃত্ব আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন, রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নাসির উদ্দিন নাসির—এদের নাম সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই দায়িত্ব দেবে এবং সেটিই তিনি মেনে নেবেন। তবে যোগ্য নেতৃত্ব এলে স্বেচ্ছাসেবক দল আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান জানিয়েছেন, দলকে চাঙা রাখতে নিয়মিত বৈঠক ও সাংগঠনিক রদবদলের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বেচ্ছাসেবক দল বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই সংগঠনটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সভাপতি পদে নাজমুল হাসানের এগিয়ে থাকা নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য রূপরেখাকেই স্পষ্ট করছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ