ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এলো বড় সুখবর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মোটরসাইকেল চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত অকটেন দেশে পৌঁছেছে।

গত ৮ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ নোঙর করে। একই সময়ে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল বহনকারী আরেকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুই চালান দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।

বাংলাদেশে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে আধুনিক ও উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি ইঞ্জিনের নকিং কমিয়ে পারফরম্যান্স ভালো রাখে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে দেশে অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেয়। অনেক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্রাহকরা অকটেন পাননি। কোথাও কোথাও ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ডও ঝুলতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের কারণে মার্চ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২২২ টন থেকে কমে এপ্রিলে ১ হাজার ১১৪ টনে নেমে আসে। গত মাসে নির্ধারিত সাতটি জ্বালানিবাহী জাহাজ না আসা এবং নতুন কোনো চালান না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিপিসি জানায়, দেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম জানিয়েছেন, ২৬ হাজার টন অকটেন দ্রুত খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, চলতি মাসে ডিজেলের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আরও সোয়া ৩ লাখ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ