ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সাঁথিয়ায় মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৮

পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং এলাকায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এলাকায় এখনও থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের আগে মসজিদে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষিতে ইমামের বয়ান শেষে নাজিম উদ্দিন সাগরকে সভাপতি এবং ড. শফিকুল ইসলাম পাপ্পুকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আরিফুল ইসলামসহ পুরাতন কমিটির সমর্থকরা আপত্তি জানান। তারা অভিযোগ করেন, সবার মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি এবং প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুন কমিটি ঘোষণার পর মসজিদের ভেতরে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষ বাইরে চলে এসে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে অংশ নেওয়া লোকজন লোহার রড, কাঠের বাটাম, হকস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে মসজিদের আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত কিছু ব্যক্তি ২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, এই অগ্নিসংযোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে এবং আশপাশের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন ড. শফিকুল ইসলাম পাপ্পু (৪০), সাদ্দাম (৩৫), রাসেল (৩০), লাল মিয়া (৫০), আমিরুল ইসলাম (৫৫)সহ আরও কয়েকজন। তাদের সাঁথিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে সাঁথিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটেছে, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।”

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ