ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

গভীর রাতে হঠাৎ বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে জ্বালানি মন্ত্রীর অভিযান

সিরাজগঞ্জ, রাত ১০টা। শহরের হোসেনপুর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে পড়েন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সঙ্গে ছিল সীমিত পুলিশ প্রটোকল—কিন্তু গন্তব্য সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন প্রায় সবাই।

প্রথমে তিনি পৌঁছান সার্কিট হাউজে। সেখানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সান্তু-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে হঠাৎই রওনা দেন মহাসড়কের দিকে। ততক্ষণেও কারও জানা নেই, কোথায় যাচ্ছে এই বহর।

একটানা প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাত পৌনে ১২টার দিকে তারা পৌঁছান বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো-তে। তখন ডিপোর মূল ফটক বন্ধ। গেটম্যানও অবাক—এমন সময়ে এমন আগমন! পুলিশের নির্দেশে গেট খুলতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ডিপো ইনচার্জ।

ডিপোর ভেতরে ঘুরে দেখার পর মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—
দেশে তেলের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোথাও ঘাটতির অভিযোগ মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, “আমরা সব ডিপোতে তেল সরবরাহ করছি, ডিপো থেকেও তেল বের হচ্ছে। তারপরও বাজারে সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে—এটা কেন? কীভাবে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ইনচার্জদের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”

প্রতিটি পাম্পে নিয়মিত তেল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করেন—কোনো পাম্পে তেল না পৌঁছানোর অভিযোগ যেন আর না আসে।

মন্ত্রী জানান, গভীর রাতে এই আকস্মিক পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিপোতে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম চলছে কিনা তা যাচাই করা।

ডিপো এলাকায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, চোরাকারবারি বা অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রায় ২০টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ-এর প্রভাবে দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিতরণ চলছিল। এতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ২৮০টি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দেশের কোথাও তেলের সংকট থাকবে না।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ