২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সরকারের অধ্যায় শেষ হয়েছে।
সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর উপদেষ্টারা ধীরে ধীরে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরতে শুরু করেছেন। অধিকাংশই ইতোমধ্যে সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন, আর কেউ কেউ এখনও সরকারি বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এখনো রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় অবস্থান করছেন। দায়িত্ব শেষ করে তিনি ইতোমধ্যে ইউনূস সেন্টার-এ কাজে যোগ দিয়েছেন। জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিনে তিনি যমুনা ছেড়ে গুলশানে নিজের বাসভবনে ফিরে যাবেন।
আলোচিত সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগে ৩৫ হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় থাকতেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের পুরোনো বাসায় ফিরে গেছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশীদ এখনও সরকারি বাসায় আছেন, তবে তিনিও মাসের শেষ দিকে নিজ বাসভবনে উঠবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সরকারি বাসা ছেড়েছেন এবং বাকিরাও ছাড়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বর্তমানে মিন্টো রোডের ৪ নম্বর বাসায় আছেন; তিনিও শনিবার নিজ বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
৩৫ মিন্টো রোডের বাসায় রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন অবস্থান করছেন মিন্টো রোডের ৫ নম্বর বাসায়। শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার রয়েছেন ৩৪ মিন্টো রোডে।
অন্যদিকে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেন এবং মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারি বাসার সুবিধা নেননি; তারা ঢাকায় নিজ নিজ বাসভবনেই ছিলেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আবারও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-এ সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো এম সাখাওয়াত হোসেনও আগামী দিনে লেখালেখি ও শিক্ষকতায় মনোযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।








