পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ নিয়মিত পাঠদান চালু থাকলেও বিকেল গড়াতেই ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক উৎসবমুখর চিত্র। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, বিভিন্ন বিভাগ, মুক্তমঞ্চ ও এলিভেটেড এর উপরসহ নানা স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ইফতারে অংশ নিচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ইফতার করার এই রীতি যেন পুরো ক্যাম্পাসকে এক বিশাল পরিবারে রূপ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল ৫টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা একে একে মাঠে, এলিভেটেড এর উপর আসতে শুরু করেন। কেউ মেস থেকে হেঁটে, হল থেকে একযোগে, কেউবা সাইকেল কিংবা মোটরসাইকেলে করে উপস্থিত হন। মাঠের সবুজ ঘাসের উপর পেপার, কাপড় বা চট বিছিয়ে নিজেদের মতো করে বসার আয়োজন করেন তারা। সামনে সাজানো থাকে মুড়ি, ছোলা, পিয়াজু, জিলাপি, খুরমা আর হরেক পদের শরবত। সাদামাটা এই আয়োজনেও শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল প্রশান্তির হাসি।
ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে পড়ালেখা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ক্যাম্পাস জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডা। আজানের ধ্বনি শোনা মাত্রই সবাই একসঙ্গে ইফতার শুরু করেন, সৃষ্টি হয় এক অনন্য সৌহার্দ্যের পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, ‘রমজান মাসে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করলে সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়। আমরা সবাই মিলে যা পারি নিয়ে আসি, ভাগাভাগি করে খাই এতেই একটা আলাদা আনন্দ আছে।’
ইইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘দিনভর ক্লাস ও ল্যাব শেষে এভাবে একসঙ্গে বসে ইফতার করা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি। এখানে সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ থাকে না, সবাই একসঙ্গে বসি। এই মুহূর্তগুলোই ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
রমজানের এই মিলনমেলা কেবল ইফতারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








