ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রুমা

বিএনপি ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পূর্ণোদ্যমে। সরকারের প্রথম দিককার অগ্রাধিকারগুলোর একটি হচ্ছে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কারণ আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ঘিরে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, তুলে ধরছেন নিজেদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত ও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা।

পাবনা জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় থেকে মাঠে সক্রিয় থাকার দাবি করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে কখনো পিছপা হননি।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইডেন কলেজ শাখার দু’বার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য (টুকু-আলীম কমিটি), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (জুয়েল-হাবিব কমিটি) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (রাজীব-আকরাম কমিটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (সালাম-মজনু কমিটি) এবং পরে (মজনু-রবিন কমিটি)-তেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে একাধিক মামলার আসামি হন রুমা। ২০১৮ সালে তিনি কারাভোগ করেন এবং ৮ দিন ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, “ওয়ান ইলেভেন থেকে রাজপথে আছি। দলের দুর্দিনে নানা মেরুকরণ হলেও আমার ঠিকানা ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের স্বার্থে কখনো আপস করিনি। নারী জাগরণের অগ্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি। বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে—এটাই আমার বিশ্বাস।”

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরে-বাইরে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা। অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ