ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জানা গেল খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার কারণ

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে আলোচনায় থাকা ড. খলিলুর রহমান এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তার এই নিয়োগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিস্ময় শুধু বিরোধী দলে নয়, বিএনপির ভেতরেও কম নয়।

বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা তাদের জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর। তবে প্রকাশ্যে কেউই পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে রাজি হননি। অন্যদিকে বিরোধী দল বিষয়টিকে কড়াভাবে সমালোচনা করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা তুলে প্রশ্ন তুলছে।

দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলছেন, কূটনীতিতে খলিলুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পেশাদার দক্ষতা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও প্রতিবেশী ভারতের মতো প্রভাবশালী শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজন—এই বিবেচনাই তার নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছে বলে তারা মনে করেন।

খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক চাপে ছিল। সে সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অগ্রগতি হয়।

সেই সফরে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, ওই বৈঠকের মধ্য দিয়েই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ নতুন করে সক্রিয় হয়।

আরও জানা যায়, ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান–এর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন খলিলুর রহমান। তখন থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেও তিনি নির্বাচন আয়োজনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন—এমন ধারণা তিনি দলটির শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

সব মিলিয়ে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ, কূটনৈতিক বাস্তবতা ও অতীত সম্পর্কের জটিল সমন্বয়ের ফল—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ