ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

যে ১ টি কারণে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যায়নি জামায়াত

সরকারি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও সংস্কারের শপথ এড়িয়ে গিয়ে জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে সরকারি দলের অবস্থান জনমতের বিপরীত এবং তা স্পষ্টভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায়।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ছাব্বিশ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায়ই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, গোটা জাতি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করেছিল বলেই আজকের এই সংসদ সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, দল হিসেবে তারা চাইলে ভিন্ন সিদ্ধান্তও নিতে পারতেন। তবে জুলাই আকাঙ্ক্ষা, গণভোটের রায় এবং ভোটারদের সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়াকে তারা দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সচিবালয়ের আমন্ত্রণপত্রে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল—প্রথমটি সংসদ সদস্য হিসেবে, দ্বিতীয়টি জুলাই সনদের গণভোটভিত্তিক সংস্কারের শপথ। কিন্তু সংসদ ভবনে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সরকারি দল কেবল সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েছে।

“আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা দুইটি শপথই নিতে প্রস্তুত হয়ে এসেছি,”—বলেন তিনি।

সরকারি দল সংস্কারের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সংসদ অধিবেশন বসার পর বিধান তৈরির কথা বলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দ্রুতই সেই অগ্রগতি দেখতে চাই। জুলাইকে সম্মান জানাতে হলে সংস্কারের শপথ গ্রহণ করতেই হবে। অন্যথায় এই সংসদ গৌরবের আসনে বসতে পারবে না।”

তিনি বলেন, বিকেলের আরেকটি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং প্রত্যেককে তিনটি করে কার্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু সংস্কারের শপথ না হওয়ায় তারা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। “জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান আমরা করতে পারি না,”—যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির জানান, তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত কেউ মন্ত্রী হলে সরকারি প্লট সুবিধা নেবেন না এবং ট্যাক্সমুক্ত গাড়িও ব্যবহার করবেন না। এ সিদ্ধান্তে তারা অটল আছেন। পাশাপাশি, আর কী কী সুবিধা পরিহার করা যায় তা নিয়েও তারা বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে না পারায় তাদের কোনো আফসোস নেই। তবে তিনটি নির্বাচন ‘ধ্বংস’ হওয়ার পর জাতি যে প্রত্যাশা করেছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যায়নি—এ নিয়ে হতাশা রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে তারা সমর্থন দেবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ এলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।

এদিকে, এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য খলিলুর রহমান–এর নতুন মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া অনৈতিক। তার দাবি, নির্বাচনের আগে ছাত্র উপদেষ্টারা নিরপেক্ষতার স্বার্থে পদত্যাগ করেছিলেন। এখন খলিলুর রহমান যদি সরকারে যোগ দেন, তবে আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কারচুপি ও পরিকল্পিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নেওয়ার মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।

এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ