ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দেখে নিন বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় যারা

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের পথে দলটি। নতুন সরকারের নেতৃত্বে থাকছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। ইতোমধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৪৫টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সচিবালয়—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্র বলছে, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি তরুণ, উচ্চশিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।

ঢাকা-৮ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আবারও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

 

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। অতীতেও তিনি একই দায়িত্ব পালন করেছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আইন অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন। আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন ড. এম এ মুহিত।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া।

টেকনোক্র্যাট কোটায় চমক?

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেল।

কৃষিমন্ত্রী হিসেবে টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব পেতে পারেন শামসুজ্জামান দুদু।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকতে পারেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।
শ্রমমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলের নাম শোনা যাচ্ছে।

জোট থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী

বিএনপির শরিক জোট থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, নুরুল হক নূর ও জোনায়েদ সাকি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন।

কী বার্তা দিচ্ছে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা?

দলীয় সূত্র বলছে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এবং শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় সরকার’ ধাঁচে মন্ত্রিসভা গঠন করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত মুখ এনে প্রশাসনে নতুন গতি সঞ্চারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এখন সবার নজর ১৬ ফেব্রুয়ারির দিকে—সেদিনই স্পষ্ট হবে কেমন হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ