ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ভোট যেভাবে হয়েছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল যদি একই ধারায় আসে, তাহলে জামায়াত তা মেনে নেবে—অন্য কোনো দল মানুক বা না মানুক।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ভোট গণনার সময় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে, তবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত মন্তব্যে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “জনগণের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে অনেক জায়গায় জামায়াত এগিয়ে রয়েছে—তবে এটিই শেষ কথা নয়।”
নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে নানা শঙ্কা ছড়ানো হলেও বড় ধরনের কোনো কেলেঙ্কারি হয়নি। “সমাজে একসঙ্গে চলতে গেলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নির্বাচন ভালো হয়েছে,”—মন্তব্য করেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে অতীতের তুলনায় সর্বোচ্চসংখ্যক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও দায়িত্বপালনকারী সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সব রাজনৈতিক দলকে পাশে চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই সরকার হোক জনগণের—কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের নয়। দল ও ব্যক্তির গণ্ডি পেরিয়ে ১৮ কোটি মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা হোক, এটাই আমাদের আশা।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা বেশি প্রশংসার দাবিদার।
ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে পৃথক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, কিছু অনিয়ম ও দুর্বলতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন ছিল দেশবাসীর কাছে উপভোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮, পটুয়াখালী-১সহ কয়েকটি আসনের কিছু কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছু জায়গায় অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন যোবায়ের।
এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ভোটের আগের দিন থেকে নানা উদ্বেগ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছিল। তবে সব আশঙ্কাকে ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে অর্থবহ করেছে। তাঁর মতে, “মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরাঞ্চলের অনেকে গ্রামে গিয়ে ভোট দিয়েছেন, যা ছিল চোখে পড়ার মতো।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম ও এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন প্রমুখ।
সামগ্রিকভাবে, কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ সত্ত্বেও নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে জামায়াতে ইসলামী এবং চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।








