দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইসঙ্গে নতুন বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটেও নিজেদের রায় দিচ্ছেন ভোটাররা। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে।
সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন।
দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে—
-
বিএনপি (ধানের শীষ): ২৯১ জন
-
ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা): ২৫৮ জন
-
জামায়াতে ইসলামি (দাঁড়িপাল্লা): ২২৯ জন
-
জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল): ১৯৮ জন
-
জাতীয় নাগরিক পার্টি (শাপলা কলি): ৩২ জন
নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার।
এর মধ্যে—
-
পুরুষ: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন
-
নারী: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন
-
তৃতীয় লিঙ্গ: ১ হাজার ২২০ জন
ভোটার সংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে বড় আসন গাজীপুর-২ এবং সবচেয়ে ছোট ঝালকাঠি-১।
শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।
প্রতীক বরাদ্দের পর টানা ২০ দিনের প্রচারণা শেষ হয় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখার বিধান কার্যকর করা হয়।
১৫ বছরের অপেক্ষার পর ভোট ও গণভোট—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আজ দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের এক ঐতিহাসিক দিন।








