বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভোট কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাই স্বাভাবিক। তবে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি নিজে তেমন কোনো আশঙ্কা দেখছেন না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, এই নির্বাচন ভালো ও সুষ্ঠু হবে। এবার যেভাবে প্রশাসনিক কাঠামো সাজানো হয়েছে, তাতে কেউ ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারবে না বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।”
জামায়াতে ইসলামী মাঠ প্রশাসন সাজিয়ে ফেলেছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি বিষয়টি সেভাবে দেখেন না। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন। “সবার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা নিয়মের মধ্যেই থাকবেন—এই বিশ্বাস আমার রয়েছে,” বলেন তিনি।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময়ই নির্বাচনের রায়কে সম্মান করেছে। “২০০৮ সালে আমরা মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিলাম, তখনও ফলাফল মেনে নিয়েছি। এবারও তাই করব,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে দেখে না। অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কৌশলে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। এর বিপরীতে বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
“আমরা জনগণকে বলছি—যাকে খুশি তাকেই ভোট দিন, কিন্তু সবাই ভোট দিতে যাবেন,” বলেন তিনি।
এর আগে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, দেশের প্রখ্যাত আলেমরাও জামায়াতের অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাবুনগরী সাহেব জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ বলেছেন এবং চরমোনাইয়ের পীর জামায়াতকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার ভাষায়, “এমন একটি দলকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ঈমান নষ্ট করতে পারি না।”








