ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

খামেনিকে হত্যার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।

বৈঠকে তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ঐতিহাসিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বন্ধনের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এ সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের ভূমিকার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্পিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ ইরানের জনগণের পাশাপাশি পুরো পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমেই সম্ভব। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার সব ধরনের উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের একপর্যায়ে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।

ইরান সরকার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানাতে ছয় দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শুক্রবার তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়। শনিবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজ বাসভবনে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরান মার্কিন স্বার্থ ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

খামেনির নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের সরকারি প্রতিক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। প্রথম বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও খামেনির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

পরবর্তীতে ২ মার্চ দেওয়া আরেক বিবৃতিতে সরকার খামেনির মৃত্যুতে শোক ও মর্মাহত হওয়ার কথা জানায়। তবে তখনও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়নি।

চার মাস পর তেহরানে স্পিকারের বক্তব্যে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খামেনি হত্যার নিন্দা জানালো বাংলাদেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ