বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ ঘোষণা দেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদানের কারণে তিনি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, আজ পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিমগ্ন। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ এই নেত্রী আর আমাদের মাঝে নেই— ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত সবাইকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দানের জন্য প্রার্থনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ দেখিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শোকের এই সময়ে সবাইকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা ও অন্যান্য শোকানুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য দানের প্রার্থনা করেন।








