ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রাচীনতম পাবনা জেলার ১৯৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

আজ ১৬ অক্টোবর দেশের অন্যতম প্রাচীনতম ও ইতিহাস সমৃদ্ধ জেলা পাবনার ‘জন্মদিন  । এবার পাবনা জেলার বয়স বেড়ে দাঁড়ালো ১৯৭ বছর।

১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পাবনা জেলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৯০ সাল অবধি বর্তমান পাবনার বেশীরভাগ অংশ রাজশাহী জেলার একটি থানা হিসাবে ছিল। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট এ ডাবিøউ মিল্সকে ১৮২৮ সালে পাবনায় জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

১৮২৮ সালের ১৬ অক্টোবর পাবনাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর চার বছর পর ১৮৩২ সালে জয়েন্ট ম্যাজিষ্ট্রেটের পরিবর্তে ডেপুটি কালেক্টর নিয়োগের মাধ্যমে পাবনা পায় পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা পায়।

কোম্পানি শাসনের অবসানের পর ১৮৫৮ সালে বৃটিশ সম্রাজ্ঞী রাণি ভিক্টোরিয়ার শাসনাধীনে চলে যায় পাবনা জেলা। এর আগে ১৮৫৫ সালে ময়মনসিংহ জেলা থেকে সিরাজগঞ্জ থানাকে পৃথক করে পাবনা জেলার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৮৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারি মাসের জেলার ঈশ্বীরদীতে প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়। প্রথম মোটর সার্ভিসের প্রবর্তন করা হয় ১৯২৬ সালে। ১৯৪০ সালের পর পাবনা শহরে রিকশার প্রচলন ঘটে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ভুটা আন্দোলন, খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনসহ সবক’টি আন্দোলন সংগ্রামে পাবনা জেলার রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস।

হোসিয়ারি শিল্প, তাঁত, কাঁচি, বেনারসি-কাতানসহ অন্যান্য শিল্প সমৃদ্ধ এই জেলা একসময়ে ছিল দেশের অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র। ৩৫১ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পাবনা জেলা ৯টি উপজেলা, দু‘টি থানা ও ৭৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।

‘পাবনা’ নামকরণ যেভাবে : রাধারমন সাহা তার ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে পদ্মার অববাহিকা ‘পাবনী’ থেকে পাবনা’র নামকরণ হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ফরাসি শব্দ ‘পানবহ’ এর অভিধানিক অর্থ তুলা বা তুলাজাত দ্রব্য।

এদিকে পাবনা জেলার জন্মদিন উপলক্ষে ‘পাবনা প্রেসক্লাব’ বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’ সন্ধ্যায় প্রীতি সম্মিলনি, কেক কাটাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উভয় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, দিবসাটি পাবনাবাসীর জন্য গর্বের। তাই এই দিবস পালনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ