ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

হাসিনার আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বিপুল অর্থ উদ্ধারে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ১৫ বছরে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে অর্থ পাচার হয়েছে। এই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকার প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীনসহ ১০টি দেশকে অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির বিষয়ে সম্মতি মিলেছে বলে জানান তিনি।

অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।

সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ রয়েছে।

সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ