ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটে আমির হামজাকে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বাড়িতে ঢুকে এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ হামলা হয়।

নিহত আমির হামজা মুন্সী (২৩) স্থানীয় রুহুল আমিন মুন্সীর ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খুলনার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাল প্রায় ৪টার দিকে বাড়ির উঠানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ১০-১২ জনের একটি দল সেখানে আসে। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল এবং তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়।

একপর্যায়ে তারা হামজাকে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে পাশের খালের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি মাথায় লাগলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, “একটি সংঘবদ্ধ দল পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার চাই।”

চাচা বাচ্চু মুন্সীর ভাষ্য, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যেতে দেখেন। তার সন্দেহ, খুলনার কিছু ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন বলেন, জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা একযোগে তদন্ত শুরু করেছেন।

এর আগে চলতি মাসে একই জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় পৃথক দুইটি গুলির ঘটনায় একজন ব্যবসায়ী নিহত ও আরেকজন গুলিবিদ্ধ হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ