ঢাকা, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

পাবনায় দাদি-নাতনিকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি ও নাতনিকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের সম্পর্কে চাচা।

পুলিশ জানায়, শ্লীলতাহানির চেষ্টায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শরীফ এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটান। নিহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

ঘটনার পর জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের কারণে প্রায়ই ঢাকার সাভারে থাকতেন। ফলে জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন।

গ্রেপ্তার শরীফ জিজ্ঞাসাবাদে জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যান। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকায় তিনি জামিলাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে তাকে চড় মারেন। এই ঘটনায় অপমানিত হয়ে শরীফ সেদিন চলে যান।

এর কয়েকদিন পর, ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শরীফ আবার জামিলাদের বাড়িতে যান। তিনি প্রথমে ক্ষমা চাইতে চান। কিন্তু সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করলে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সুফিয়া খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

দাদির ওপর হামলা দেখে জামিলা চিৎকার শুরু করলে শরীফ তাকেও রাজমিস্ত্রিদের ব্যবহৃত কুন্নি দিয়ে মাথা ও কপালে আঘাত করেন। গুরুতর আহত জামিলাকে তিনি টেনে পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি জামিলাকে ধর্ষণ করেন এবং পরে গলা টিপে হত্যা করেন।

পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের মরদেহ এবং সরিষাক্ষেতে জামিলার বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফকে শনিবার রাত ১০টার দিকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ