জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, সাধারণ মানুষ এখন আর ট্যাগিং, ব্যাশিং ও দোষারোপের রাজনীতি দেখতে চায় না; তারা চায় পরিচ্ছন্ন, ইতিবাচক ও জনমুখী রাজনীতি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি, জাতীয় ঐক্য এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।
ড. আজহারী বলেন, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশবাসী আবারও তুলনামূলক ভালো নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে এই সময়কে ঘিরে গুজব, উসকানি এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সচেতনতা, সংযম ও বিচক্ষণতা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। “এই দেশ আমাদের সবার। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বও সম্মিলিতভাবে আমাদেরই,”—লেখেন তিনি।
রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে তিনি বর্তমান সময়ের এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা হিসেবে আখ্যা দেন। ড. আজহারীর ভাষায়, যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও সমালোচনা হতেই পারে, কিন্তু অসম্মান বা ভিন্নমতকে তুচ্ছজ্ঞান করার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সামাজিক বন্ধনকে শত্রুতায় পরিণত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই একটি মানবিক সমাজের মূল ভিত্তি। তাই ঘৃণার রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য ও ভালোবাসার শক্তিতেই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
ড. মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, জনগণ এখন চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির অবসান চায়। তারা রাজনীতিতে নতুনত্ব, স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা দেখতে আগ্রহী। রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ও সমাধানের রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরুন। জনগণ যোগ্যতা বিচার করতে জানে, রায় দেওয়ার অধিকার তাদের হাতেই ছেড়ে দিন।
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় আঠারো কোটি মানুষ প্রশাসন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করে। আন্তরিক সদিচ্ছা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে। দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতহীন আচরণই তাদের নাম ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে—ইনশাআল্লাহ।
ভোটকে একটি আমানত হিসেবে উল্লেখ করে ড. আজহারী বলেন, যেমনভাবে বস্তুগত আমানতের ক্ষেত্রে সততা ও জবাবদিহিতা জরুরি, ঠিক তেমনি ভোট প্রয়োগেও বিবেক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জনগণকে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার অনুরোধ জানান—যেন দেশ এমন নেতৃত্ব পায়, যাদের হাতে দেশের মাটি, মানুষ ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে।
পরিশেষে ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, জনগণের সমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, সবাইকে তাদের গ্রহণ করে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, ঐক্যবদ্ধ জনগণ ছাড়া কোনো নেতৃত্বের পক্ষেই দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। নেতৃত্ব পথ দেখায়, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় সম্মিলিত জনশক্তি। তাই সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ পুনরায় তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। ছাত্র-জনতার হাতে আবারও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়—এটি দেশের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ।








