ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জনগণের আহ্বান পেলে রাজনীতিতে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনার সন্তানরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম এবং সে বিষয়ে তারা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজ দলের কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন বাস্তবসম্মত নয়। তার ভাষায়,
“আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল থাকবে কোথায়?”
তিনি যোগ করেন, জামায়াত বিরোধী দলে থাকলে তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম উঠে আসছে। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা ও সংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের অংশ হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সমীকরণ আর প্রাসঙ্গিক নয় বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, ৩০০ আসনের সংসদে দলটি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় পেতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে রয়েছে মিত্র দলগুলো। যদিও সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব দিতে চাননি তারেক রহমান।

নতুন নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি জানিয়েছে, বিজয়ী হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করা হবে। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যেসব দল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল না, তারা সরকারে থাকার সুযোগ পাবে না। সে তালিকায় জামায়াতকে রাখা হয়নি।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ এমন অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে, যারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি বলেন,
“আমাদের অগ্রাধিকার হবে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ব্যবসা ও বিনিয়োগ আনতে হবে, যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে যে কেউ উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তার সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।”

শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যাকে গ্রহণ করবে, রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।
“জনগণ যদি কাউকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে,”—বলেন তিনি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ