ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ভাড়াটিয়া ও চাঁদাবাজদের সঙ্গে থেকে আমি দোযখে যেতে রাজি না: কর্নেল অলি

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। এখন বিএনপি ভাড়াটিয়া, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। এ কারণেই তিনি ২০০৬ সালে বিএনপি ত্যাগ করেছিলেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)  চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি আহমদ বলেন, “বেগম জিয়ার অনুরোধে এক পর্যায়ে আবার জোটে গেলেও দেখেছি, তিনি অসুস্থ হওয়ার পর দলটি ফের চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। সুতরাং এসব চাঁদাবাজদের সঙ্গে থেকে দোযখে যাওয়ার জন্য আমি রাজি নই।”

তিনি দাবি করেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার দুই সংগঠকের একজন তিনি নিজেই। “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমি মিলেই বিএনপি গঠন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম বিদ্রোহ করি আমি—ক্যাপ্টেন অলি আহমদ হিসেবে,” বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে গোলাগুলির খবর পেয়ে তিনি অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে বিদ্রোহ করেন এবং জিয়াউর রহমানকে দেওয়ানহাট থেকে ফিরিয়ে এনে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে যান। পরদিন সেখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে অলি আহমদ বলেন, “আজ বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশেই থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হতো। এই দেশের মানুষের কোনো অভাব নেই—অভাব শুধু সৎ রাজনীতিবিদের।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল বিদেশি শক্তির দালালি করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করছে। “ভুল সিদ্ধান্ত নিলে স্বাধীনতা হারাতে হবে,” হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ক্ষমতায় আনতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

অলি আহমদ বলেন, “আমি জামায়াত হইনি, জামায়াতও এলডিপি হয়নি। আমরা নিজ নিজ পরিচয় নিয়ে একত্র হয়েছি—হাসিনার দোসরদের পরাজিত করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন কার্যত আওয়ামী লীগের শূন্যতা পূরণ করছে এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। “দেশ বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে,” বলেন তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে এলডিপি সভাপতি বলেন, “আমরা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই। ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করতে শেখায় না। আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে এ দেশে বসবাস করুক।”

ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোট একটি আমানত। যারা আমানতের খেয়ানত করে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। মার্কা দেখে নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দিন।”

শেষে তিনি বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জামায়াতের পাশে এসেছি, কারণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে দায়িত্ব আমি শেষ করতে পারিনি, এখন সেই দায়িত্ব নিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল ভোগ করবে।”

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ